১. টাইম মেশিন আর টয়লেট কমোড
গার্ড আহমেদ সাহেব সরকারি দফতরের একজন
গর্বিত প্রহরী। বয়স ষাট ছাড়িয়েছে, কিন্তু ডিউটির প্রতি তাঁর নিষ্ঠা আজও অটুট। যদিও
মাঝেমধ্যে তিনি জানেন না, কোন দিকটা উত্তর আর কোনটা অফিসের গেট।
একদিন অফিসের পুরাতন স্টোর রুমে ঝাড়ু
দিতে গিয়ে তিনি এক অদ্ভুত বস্তু খুঁজে পেলেন। দেখতে টয়লেট কমোডের মতো, তবে পাশে
বসানো একটা ছোট স্ক্রিন, কিছু বোতাম আর উপরে লেখা “ChronoPot v2.3 - CAUTION:
FOR TRAINED TIME TRAVELLERS ONLY”
অহংকারে ভরা গার্ড আহমেদ সাহেব ফিসফিস
করে বললেন, “হুম, আমিও তো ট্রেনিংই পাইসি। হেলমেটের ট্রেনিং, বুট পালিশের
ট্রেনিং!”
বোতামে হাত দিলেন, আর যেই না বসেছেন,
সাথে সাথে ঝাঁকুনি খেয়ে অদ্ভুত আলো ঝলসে উঠে তিনি অদৃশ্য!
২. পেছনে
ফিরলেন, সামনের পৃথিবী পেলেন!
চোখ খুলতেই আহমেদ সাহেব দেখতে পেলেন –
চারপাশে সবাই ধুতি পরা, কেউ হাতে ঢেঁকি, কেউ গরুর গাড়ি চালাচ্ছে। এক লোক তাঁকে
দেখে বলল, “এই যে ভাই, আপনি কী পরেছেন? এই পোশাক তো নবাবদের গলফ খেলার জামার মতো!”
একটু পরেই বুঝলেন, তিনি এখন ১৭৭১
সাল-এ! বাংলার কৃষকেরা লর্ড ক্লাইভকে গাল দিচ্ছে, আর খাজনা না দিতে ফন্দি করছে।
তিনি নিজের স্মার্টফোন বের করলেন,
কিন্তু সেটা তো তখনকার “ভবিষ্যৎ যন্ত্র”। চারপাশে লোক জড়ো হয়ে গেল, কেউ তাঁকে
“জিন” ভাবছে, কেউ “মোগল গুপ্তচর”।
দশ মিনিটের মধ্যেই তিনি গ্রেফতার হলেন
এবং এক ব্রিটিশ অফিসারের সামনে হাজির।
“আপনি কে?” অফিসার প্রশ্ন করলো।
আহমেদ সাহেব উত্তর দিলেন, “আমি
ভবিষ্যৎ থেকে এসেছি। আমি ২০২৫ সালের সরকারি গার্ড! আমার দায়িত্ব অফিসের পেছনের
দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা!”
ব্রিটিশ সাহেব চশমা খুলে বললেন,
“Interesting. So, do you have any idea how to fix the East India Company’s tax
policy?”
“জি না, তবে আমি অফিসে জমা না দিলে কী
হয়, সেটা জানি!”
৩.
ভবিষ্যতের বিভ্রাট
বেশ কিছু দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার পর,
অবশেষে টাইম কমোডে ফিরে আসতে পারলেন তিনি। কিন্তু এবার টাইমিং ঠিক ছিল না। তিনি
চলে গেলেন ২১২৫ সাল-এ!
এখানকার মানুষজন রোবট, ট্রাফিক
নিয়ন্ত্রণ করছে ড্রোন, এবং সবাই AI-এর সঙ্গে কথা বলছে, যেন তারা ছোটবেলার বন্ধু।
আহমেদ সাহেবের পুরনো বুট আর ইউনিফর্ম দেখে রোবটরা চিন্তায় পড়ে গেলো — “এই মানুষটা
কোন জাদুর বই থেকে বের হলো?”
তিনি এক AI কিয়স্কে গিয়ে জিজ্ঞেস
করলেন, “ভাই, একটা চা পাবো?”
AI উত্তর দিল, “ডাটা আপডেটেড হচ্ছে…
চা বলতে আপনি কি বোঝাতে চাচ্ছেন? ক্যাফেইনযুক্ত হাইড্রোজেন ইনফিউশন?”
“না না ভাই, লাল চা!”
সিস্টেম হ্যাং করে গেল।
৪. ছোট্ট
একটা বিপ্লব
এই ভবিষ্যতের পৃথিবীতে তিনি বুঝলেন,
মানুষ অনেক কিছু আবিষ্কার করলেও, কিছু জিনিস হারিয়ে ফেলেছে — আন্তরিকতা, হাসি,
মানবিকতা।
সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি বলে উঠলেন, “শোনো
রে রোবোটেরা! মানুষের হাসি বুঝা শিখো! অফিসে ১০ বছর চা ছাড়া কাজ করছি আমি, কিন্তু
এখনও মানুষ!”
তার বক্তৃতা রেকর্ড করে AI মিডিয়া
প্ল্যাটফর্মে ছেড়ে দিলো — এক সপ্তাহের মধ্যে সেটা ভাইরাল হলো, “The Last
Laughing Human” নামে।
৫. আবার
ফিরে আসা
শেষ পর্যন্ত তিনি টাইম কমোডে বসে আবার
নিজের সময়ে ফিরলেন — ২০২৫ সালের স্টোর রুমে।
সাথে করে নিয়ে এলেন ভবিষ্যতের এক
শিক্ষণীয় বার্তা — “প্রযুক্তি যতই বাড়ুক, মানুষ যেন মানুষই থাকে।”
তিনি এরপর সেই টাইম মেশিনে তালা
ঝুলিয়ে দিলেন। আর অফিসের নতুন নিরাপত্তা নীতিমালায় যুক্ত করলেন একটি লাইন:
“ভবিষ্যৎ ঘাঁটাতে যেয়ো না, বর্তমান
সামলাও!”
📌 শিক্ষণীয় বার্তা (Moral of the Story):
- হাস্যরস:
আহমেদ সাহেবের বোকাসোকা টাইম ভ্রমণ এবং তাঁর কথাবার্তায়।
- বিজ্ঞান জ্ঞান:
টাইম ট্রাভেল, ভবিষ্যতের প্রযুক্তি ও ইতিহাসের প্রেক্ষাপট।
- সামাজিক বার্তা:
প্রযুক্তির অগ্রগতির মাঝে মানবিকতা ও মূল্যবোধের গুরুত্ব।
পরিশেষে
যত প্রযুক্তিই আসুক,
মানুষের মানবিকতা, হাসি আর আন্তরিকতাই সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।
টাইম ট্রাভেল যতটা মজার, ঠিক ততটাই
দায়বদ্ধতারও বিষয়।
